উৎসে কর কি ? কখন এবং কোন কোন খাতে উৎসে কর কর্তন করা হয় ?

উৎসে কর, ইহা প্রদানের সময় এবং খাতসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো।

.

উৎসে কর (TDS) হলো আয়কর (Tax) আদায়ের একটি বিশেষ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আয়ের অর্থ পাওয়ার সময়ই দাতা কর্তৃক আয়ের একটি অংশ কর হিসাবে কেটে রাখা হয়। যা পরবর্তীতে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আয়ের উৎস যেখানে উৎসে কর দেওয়া হয় সেখানে।

.

উদাহরণ-

আব্দুল করিম একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার মাসিক বেতন ১ লক্ষ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে তার বেতন দেওয়ার সময় ১০% টাকা অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা কেটে রেখে বাকি ৯০,০০০ টাকা আব্দুল করিমকে প্রদান করেন। এই ১০ হাজার টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। এই ১০ হাজার টাকাই হলো উৎসে কর (TDS)।   

.

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কতিপয় খাতে যখনই কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়, তখনই উক্ত অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সেই অর্থ প্রদানের সময় উৎসে কর কেটে রাখতে বাধ্য থাকবেন। সাধারণত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে রাখা হয়:

১। বেতন কিংবা পারিশ্রমিক প্রদানের সময়।

২। কোনো চুক্তির বিপরীতে বিল বা অর্থ পরিশোধের সময়।

৩। লভ্যাংশ বা সুদ প্রদানের সময়।

৪। স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের সময়।

.

উৎসে কর প্রদানের খাত ও কর কর্তনের হার

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য কিছু খাত এবং তার করের হার নিচে দেওয়া হলো:

খাত সমূহ এবং কর কর্তনের হার-

১। বেতন (Salary)- কর্মীর প্রতি মাসের আয় থেকে গড়ে সম্ভাব্য হারে কর কেটে রাখা হয়।

২। ব্যাংক আমানতের সুদ- টিন (TIN) থাকলে ১০%, টিন (TIN) না থাকলে ১৫% কাটা হয়।

৩। জমি বিক্রয় বা হস্তান্তর- জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় এলাকাভেদে নির্দিষ্ট হার মৌজা রেট অনুযায়ী।

৪। ঠিকাদারি বা সাপ্লাই- বিলের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ৩% থেকে ৭.৫%

৫। পেশাগত বা কারিগরি সেবা- ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা কনসালটেন্সি সেবার ক্ষেত্রে ১০%

৬। বাণিজ্যিক ভাড়া- দোকান বা অফিস স্পেস ভাড়ার ক্ষেত্রে ৫%

৭। কমিশন বা ব্রোকারেজ- পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কমিশনের উপর ৫% থেকে ১০%

৮। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা- মোট বিনিয়োগ ও স্কিমের ধরণ অনুযায়ী ৫% থেকে ১০%

৯। রপ্তানি আয়- রপ্তানি মূল্য থেকে সরাসরি ১% কেটে নেওয়া হয়।

.

১। কর ফাঁকি রোধ- আয়ের উৎস হতে কর কেটে নিলে কর ফাঁকির সুযোগ কমে যায়।

২। করদাতার উপর চাপ কমানো- আয়ের উৎস হতে কর কেটে নিলে বছর শেষে করদাতার উপর বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ পড়ে না।

৩। সরকারের নিয়মিত খরচ মিটানো- সারা বছরই সরকারের নানবিধ খরচ থাকে যাহা মিটানোর জন্য উৎসে কর সহায়ক হিসাবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,

উৎসে কর কেটে রাখলেই করদাতার কর সংক্রান্ত দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর বিবরণী (Tax Return) জমা দিতে হয়। উক্ত আয়কর বিবরণীতে মোট কর দায় থেকে কেটে রাখা করের (TDS) পরিমাণ বাদ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *