খতিয়ান বা পর্চা বা স্বত্বলিপি বা Record of right বা ROR
সাধারণ ভাবে খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের খাতা বা বই। খতিয়ানের সমার্থক শব্দ বলা যায় খাতা, হিসাবের পাতা, বই, গ্রন্থ ইত্যাদি। কিন্তু আইনের ভাষায় খতিয়ান বলতে জমির মালিকানার বিবরণ সম্বলিত সরকারি নথিকে বুঝায়। ইংরেজিতে ইহাকে বলা হয় Record of right বা ROR. সরকার সঠিকভাবে খাজনা আদায় ও জমির মালিকানা নির্ধারনের লক্ষে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই খতিয়ান প্রস্তুত করে থাকে। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৭৪ ধারা অনুযায়ী খতিয়ান একটি সরকারি দলিল। জমির মালিকানা নির্ধারণে ইহার গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে খতিয়ানের ধরণ ও খতিয়ান চেনার উপায় বর্ণনা করা হলো-
খতিয়ান ও পর্চার পার্থক্য-
খতিয়ানকে পর্চা বা স্বত্বলিপি বা Record of right বা ROR বলা হয়ে থাকে। তবে খতিয়ান এবং পর্চার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। জরিপ কার্য শেষে কর্মকর্তাগণ জমির মালিককে খতিয়ানের একটা খসড়া কপি প্রদান করেন। এই খসড়া খতিয়ানকেই পর্চা বলা হয়। এই পর্চা যখন চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয় তখন তাকে খতিয়ান বলা হয়।
খতিয়ানের গুরুত্ব-
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৭৪ ধারা অনুযায়ী খতিয়ান একটি সরকারি দলিল। জমির মালিকানা নির্ধারণে ইহার গুরুত্ব অপরিসীম।
খতিয়ানের ধরণ-
বাংলাদেশে পাঁচ ধরণের খতিয়ানের প্রচলন দেখা যায়। যথা-
(১) সি.এস খতিয়ান (CS-Cadastral Survey Khatiyan)
(২) এস.এ খতিয়ান (SA-State Acquisition Khatiyan)
(৩) আর.এস খতিয়ান (RS- Revisional Survey Khatiyan)
(৪) বি.আর.এস / বি.এস / সিটি খতিয়ান (BRS/BS/City Survey Khatiyan)
(৫) নামজারি খতিয়ান (Mutation Khatiyan)
(১) সি.এস খতিয়ান (CS-Cadastral Survey Khatiyan)- (জরিপ কাল- ১৮৮৮-১৯৪০)
ব্রিটিশ আমলে ভূমির জরিপ কার্য শুরু হয়, যাহা ইংরেজি ১৮৮৮ সালে শুরু হয়ে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত চলে। এই সময়ের মধ্যে সরকার ভূমির জরিপ সম্পন্ন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করে সেটির নামই হচ্ছে সি.এস খতিয়ান।
সি.এস খতিয়ান (CS Khatiyan) চেনার উপায়-
(১) সি.এস খতিয়ান প্রস্তুতের সময়কাল ১৮৮৮-১৯৪০ সাল।
(২) এই খতিয়ান লম্বালম্বি (Portrait) পৃষ্ঠায় হবে।
(৩) ইহা দুই পৃষ্ঠায় হবে অর্থাৎ একটি কাগজের উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট থাকবে।
(৪) প্রথম পৃষ্ঠা দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে। উপরে জমিদার এবং নিচে প্রজার নাম থাকবে।
(৫) অপর পৃষ্ঠায় উত্তর সীমানা নামের একটা কলাম থাকবে।

(২) এস.এ খতিয়ান (SA-State Acquisition Khatiyan)- (জরিপ কাল- ১৯৫৬-১৯৬২)-
১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পর ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ করা। উহার পর ইংরেজি ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত জরিপ কার্য পরিচালিনা করে সরকার যে খতিয়ান প্রস্তুত করে তাকে এস.এ খতিয়ান (SA Khatiyan) বলা হয়।
এস.এ খতিয়ান (SA Khatiyan) চেনার উপায়-
(১) এস.এ খতিয়ান প্রস্তুতের সময়কাল ১৯৫৬-১৯৬২ সাল।
(২) ইহা আড়াআড়ি (Landscape) পৃষ্ঠায় হবে।
(৩) ইহা এক পৃষ্ঠার হবে।
(৪) বাম পাশে সাবেক এবং হাল খতিয়ান নম্বর থাকবে।
(৫) এস.এ খতিয়ানে রে-সার্ভে বা রে-সা নং লেখা থাকে না।

(৩) আর.এস খতিয়ান (RS- Revisional Survey Khatiyan)- (জরিপ সময় ১৯৬৬-১৯৮০ সাল)-
এস.এ খতিয়ানে বিভিন্ন ভুল ভ্রান্তি দেখা যাওয়ায় নতুন করে জরিপ কার্য শুরু হয়, যাহা ইংরেজি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলে। এই জরিপের উপর ভিত্তি করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা তাকে আর.এস খতিয়ান বলা হয়।
আর.এস খতিয়ান (RS Khatiyan) চেনার উপায়-
(১) আর.এস খতিয়ান প্রস্তুতের সময় কাল ১৯৬৬- ১৯৮০ সাল।
(২) ইহা লম্বালম্বি (Portrait) হবে।
(৩) ইহা দুই পৃষ্ঠার হবে অর্থাৎ একটি কাগজের উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট থাকবে।
(৪) প্রথম পৃষ্ঠা এক ভাগে বিভক্ত থাকবে।
(৫) আর.এস খতিয়ানে রে-সার্ভে নং লেখা থাকবে।
(৬) আর.এস খতিয়ান, দেখতে মোটামুটি সি.এস খতিয়ানের অনুরূপ হবে।

(৪) বি.আর.এস / বি.এস / সিটি খতিয়ান (BRS-Bangladesh Revisional Survey/BS-Bangladesh Survey / City Survey Khatiyan)- (জরিপ সময় ১৯৯২-২০০০ সাল)-
বি.আর.এস / বি.এস / সিটি খতিয়ান এর জন্য জরিপ কার্য ইংরেজি ১৯৯২ সাল থেকে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত চলে। এই জরিপের উপর ভিত্তি করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা তাকে বি.আর.এস / বি.এস / সিটি খতিয়ান বলা হয়। বি.আর.এস খতিয়ানকে সংক্ষেপে বি.এস খতিয়ান বলা হয়। সিটি এরিয়া বা মহানগর এলাকার বাহিরে বি.আর.এস/বি.এস খতিয়ান প্রচলিত। আর মহানগর এলাকায় সিটি খতিয়ান প্রচলিত।
বি.আর.এস/বি.এস/সিটি খতিয়ান (BRS/BS/City Survey Khatiyan) চেনার উপায়-
(১) বি.আর.এস/বি.এস/সিটি খতিয়ান প্রস্তুতের সময় কাল ১৯৯২- ২০০০ সাল।
(২) এই খতিয়ান আড়াআড়ি (Landscape) পৃষ্ঠায় হবে।
(৩) ইহা এক পৃষ্ঠার হবে।
(৪) ইহা সম্পূর্ণ কম্পিউটারে টাইপকৃত থাকবে।
(৫) সিটি খতিয়ানে সিটি জরিপ সীল থাকবে।
(৬) বি.আর.এস/বি.এস খতিয়ানে সিটি জরিপ সীল থাকবে না।
(৭) রেঃ সাঃ নং লেখা থাকবে।
(৮) বি.আর.এস/বি.এস খতিয়ান এবং সিটি খতিয়ান দেখতে হুবহু একই রকম হবে।

(৫) নামজারি খতিয়ান (Mutation Khatiyan)-
নামজারি খতিয়ান প্রস্তুত করার জন্য কোন জরিপ কার্য পরিচালনা করা হয় না। ক্রয়-বিক্রয়, দান কিংবা উত্তরাধিকার যেকোনভাবে জমির মালিকানা হস্তান্তর হলে নতুন মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে সরকার যে খতিয়ান প্রস্তুত করে তাকে নামজারি খতিয়ান বলা হয়।
নামজারি খতিয়ান চেনার উপায়-
(১) নামজারি খতিয়ানে মামলা নম্বর থাকে।
(২) এই খতিয়ান আড়াআড়ি (Landscape) পৃষ্ঠায় হবে।
(৩) ইহা এক পৃষ্ঠার হবে।
(৪) ইহা সম্পূর্ণ কম্পিউটারে টাইপকৃত থাকবে।
(৫) এই খতিয়ানে আগত খতিয়ানের নম্বর থাকবে।

ভূমি সংক্রান্ত যেকোন জটিলতার সমাধনসহ যেকোন আইনগত মতামত ও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন-
যোগাযোগ
আইনবিদ ল্যান্ড প্রপার্টি সলিউশন সার্ভিস
সার্বিক পরিচালনায়- এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)
ল্যান্ড এন্ড ট্যাক্স কনসালট্যান্ট
১৬, কৈলাশঘোষ লেন, ঢাকা জজ কোর্ট, কোতোয়ালী, ঢাকা।
অথবা
রোড-৫, ব্লক-এ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
ফোন- 01711068609 / 01540105088
ওয়েবসাইট- www.ainbid.com