সংসদে উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ কি ?

আইন প্রণেতাগণ যেখানে বসে আইন প্রণয়ন করেন সেটাই হচ্ছে আইনসভা বা সংসদ (Legislature)। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুবিধার্থে আইনসভাকে অনেক ক্ষেত্রে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দুই ভাগে বিভক্ত আইনসভাকে বলা হয় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (Bicameral legislature)। এই দুটি ভাগের নামই হচ্ছে উচ্চকক্ষ (Upper House) এবং নিম্নকক্ষ (Lower House)।

.

নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা নির্ধারিত থাকে। যেমন বাংলাদেশের আসন সংখ্যা ৩০০টি। প্রত্যেকটি আসনের জন্য একজন জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য (Member of Parliament or MP) জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত এই প্রতিনিধিদের নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হয়।

.

১। বাজেট পাস করা।

২। আইন প্রনয়ন করা।

সাধারণত অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে নিম্নকক্ষের ক্ষমতা বেশি থাকে। সরকার গঠন ও টিকিয়ে রাখার জন্য এই কক্ষের সমর্থন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

.

ভারতের লোকসভা,

যুক্তরাজ্যের হাউস অফ কমন্স,

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস।

.

মূলত অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বিশিষ্ট নাগরিক অথবা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। উচ্চকক্ষের সদস্য সরাসরি ভোটের মধ্যমে নির্বাচিত করা হয় না, বরং নিম্ন কক্ষের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ পরোক্ষ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক হারে নির্ধারণ করেন।

.

১। নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া আইনগুলো পর্যালোচনা করা এবং

২। তাড়াহুড়ো বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কি না তা তদারকি করা।

স্থায়িত্ব: উচ্চকক্ষ সাধারণত একেবারে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় না। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর কিছু সদস্য পর্যায়ক্রমে অবসর নেন।

.

ভারতের রাজ্যসভা,

যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডস,

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট।

.

বাংলাদেশে এতদিন এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ছিল। যেটি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশে পৃথক কোনো ‘উচ্চকক্ষ’ বা ‘নিম্নকক্ষ’ ছিলনা। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের পর থেকে ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যমান এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদই নিম্নকক্ষ হিসাবে পরিচালিত হবে এবং নতুন উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন করা হবে।

.

নিম্ন কক্ষের আসন সংখ্যা- ৩০০টি।

উচ্চ কক্ষের আসন সংখ্যা- ১০০টি।

নিম্ন কক্ষের সদস্য সংখ্যা ৩০০ জন এবং উচ্চ কক্ষের সদস্য সংখ্যা ১০০ জন।

নিম্ন কক্ষের সদস্যগণ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। উচ্চ কক্ষের সদস্যগণ সংখ্যানুপাতিক হারে মনোনয়ন করা হবে।

নিম্ন কক্ষের কাজ আইন তৈরি বা প্রণয়ণ করা। উচ্চ কক্ষের কাজ আইন পর্যালোচনা ও পরামর্শ দেওয়া।

নিম্ন কক্ষ রাজনৈতিকভাবে বেশি শক্তিশালী। উচ্চ কক্ষ গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক।

.

এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)

01711068609

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *