কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ও দাখিলে না করার শাস্তি নিচে বর্ণনা করা হলো-
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী একটি কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি ব্যক্তি করদাতার (Individual Taxpayer) তুলনায় একটু জটিল এবং অনেক আনুষ্ঠানিকতাসম্পন্ন। সাধারণত কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়-
.
১। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (Audited Financial Statements)–
আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭৩ অনুযায়ী অডিট রিপোর্ট (Audit Report) ছাড়া রিটার্ন দাখিল করলে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের প্রধান শর্ত হলো কোম্পানির হিসাবপত্র অবশ্যই একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) দ্বারা নিরীক্ষিত হতে হবে। উক্ত রিটার্নের সাথে ব্যালেন্স শিট (Balance Sheet), প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ট এবং ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
.
২। রিটার্ন দাখিলের মাধ্যম–
কোম্পানি করদাতাদের জন্য বর্তমানে অনলাইনে (বিশেষ ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি) নির্ধারিত ফরম পূরণ করে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে etaxnbr.gov.bd পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে কিছু কিছু বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (Large Taxpayers Unit) নির্ধারিত সার্কেলে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হয়।
.
৩। রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা–
আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(২৩) অনুযায়ী কোম্পানির জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় নিম্নরূপ-
কোম্পানির আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী সপ্তম মাসের ১৫তম দিন হলো ট্যাক্স ডে। অর্থাৎ
(ক) কোম্পানির আয়বর্ষ ৩০ জুন শেষ হলে, পরবর্তী ১৫ জানুয়ারি।
(খ) কোম্পানির আয়বর্ষ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলে, পরবর্তী ১৫ জুলাই।
.
৪। সময় বৃদ্ধি–
কোনো কোম্পানি যৌক্তিক কারণে (যেমন: অডিট শেষ না হওয়া) সময়মতো রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে, ট্যাক্স ডে শেষ হওয়ার পূর্বেই উপ-কর কমিশনারের কাছে সময় বৃদ্ধির জন্য লিখিত দরখাস্ত দিতে হবে। কমিশনার সর্বোচ্চ ২ মাস এবং পরে পরিদর্শকের অনুমতিক্রমে আরও ২ মাস সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।
.
৫। প্রয়োজনীয় দলিলাদি–
কোম্পানীর রিটার্ন দাখিলের সময় অডিট রিপোর্টের পাশাপাশি নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হয়:
(ক) উৎস কর (TDS): কোম্পানি পূরো বছরে যত টাকা উৎসে কর হিসাবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে তার চালান।
(খ) ভ্যাট (VAT) সংক্রান্ত তথ্য: কোম্পানির ব্যবসায়িক লেনদেনের ভ্যাট রিটার্ন এবং বিআইএন (BIN) সংক্রান্ত তথ্য।
(গ) পরিচালকদের বিবরণ: শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টরদের নাম, টিন (TIN) এবং তাদের শেয়ারের পরিমাণ।
(ঘ) ব্যাংক স্টেটমেন্ট: কোম্পানির নামে পরিচালিত সকল ব্যাংক হিসাবের বাৎসরিক বিবরণী (Statement).
.
৬। কর পরিশোধ (Self-Assessment)–
রিটার্ন দাখিলের পূর্বে কোম্পানির নিট আয়ের ওপর প্রযোজ্য হারে কর (Tax) হিসাব করে তা চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। রিটার্ন দাখিলের সময় কর পরিশোধের প্রমাণপত্র হিসাবে উক্ত চালান সংযুক্ত করতে হয়।
.
৭। কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণ কর হার–
কোম্পানির কর হার প্রতি বছর বার্ষিক অর্থ আইন (Finance Act) এ দেওয়া হয়। সর্বশেষ অর্থ আইন অনুযায়ী কোম্পানির সাধারণ কর হার নিম্নরূপ-
(ক) শেয়ার মার্কেটে নন-লিস্টেড কোম্পানির (Private Limited) ক্ষেত্রে সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হলে কর হার ২৭.৫%
(খ) শেয়ার মার্কেটে নন-লিস্টেড কোম্পানির (Private Limited) ক্ষেত্রে সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে না হলে কর হার ৩০%
(গ) শেয়ার মার্কেটে নন-লিস্টেড কোম্পানির (Publicly Limited) ২০%
(ঘ) এক ব্যক্তি কোম্পানির (OPC) ক্ষেত্রে সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হলে ২২.৫%
(ঙ) এক ব্যক্তি কোম্পানির (OPC) ক্ষেত্রে সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে না হলে ২৫%
(চ) ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩৭.৫% থেকে ৪০%।
(ছ) সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুল উৎপাদনকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫% (সাথে সারচার্জ)।
(জ) মোবাইল অপারেটর কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪০% থেকে ৪৫%।
৭। রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ফলাফল–
কোম্পানির লোকসান হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আইন অনুযায়ী ইহা বাধ্যতামূলক। সময়মতো রিটার্ন দাখিল না করলে এককালীন জরিমানা এবং প্রতিদিনের বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ হতে পারে।
.
আপনার কোম্পানীর প্রপার্টি, ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ সকল আইনগত বিষয়ে সমাধানের জন্য আমাদের অভিজ্ঞ লিগ্যাল কন্সালটেন্টদের সাথে যোগাযোগ করুন-
.
যোগাযোগ
মহীউদ্দীন প্রপার্টি এন্ড ট্যাক্স কনসাল্ট্যান্টস
সার্বিক পরিচালনায়- এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)
এলএল.বি, এলএল.এম, এমবিএ
ভূমি ও কর বিশেষজ্ঞ (Land & Tax Expert)
২/১, কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, ঢাকা জজ কোর্ট, কোতোয়ালী, ঢাকা।
অথবা
রোড-৫, ব্লক-এ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
ফোন- 01711068609 / 01540105088
ওয়েবসাইট- www.ainbid.com