জমির দলিল রেজিস্ট্রির জন্য কী কী নথি বা কাগজপত্র লাগে উহার বর্ণনা নিচে তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমি বা ফ্ল্যাট বা যেকোন স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য দলিল প্রস্তুত করে তাহা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। অর্থাৎ দলিল রেজিস্ট্রেশন এখন বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে Registration Act, 1908 আইন অনুযায়ী জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
১। ছবি: দাতা এবং গ্রহীতা (বিক্রেতা ও ক্রেতা) উভয়ের সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ১ কপি করে।
২। NID কার্ড: দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট বা জন্মসনদ -এর মূল কপি ও ফটোকপি।
৩। খতিয়ান: CS, SA, RS, BS/BRS বা সিটি জরিপ খতিয়ান মূল কপি বা ফটোকপি।
৪। নামজারি খতিয়ান: বিক্রেতা বা দাতার নামজারি (Mutation) খতিয়ান, ডিসিআর ও সর্বশেষ খাজনা পরিশোধের রিসিট।
৫। মূল দলিল: বিক্রেতা বা দাতার মূল দলিল বা সার্টিফাইড কপি। তবে সার্টিফাইড কপি দিলে অবশ্যই রিসিটসহ দেখাতে হবে।
৬। বায়া দলিল: বিক্রেতা বা দাতার দলিল ছাড়া তার পূর্বে যত মালিক ছিল তাদের মালিকানার দলিলই হলো বায়া দলিল। সকল বায়া দলিলসমূহ লাগবে।
৭। আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেট: সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকার পত্র বা সার্টিফিকেট।
৮। ওয়ারিশান সনদ: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেয়র বা কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশান সনদ এর সাথে মূল মালিকের মৃত্যু সনদটা নিলে ভাল হয়। তবে শুধু ওয়ারিশান সনদ হলেই চলবে।
৯। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney) দলিল: আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে হস্তান্তর হলে পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney) দলিলের মূল কপি।
১০। বিক্রয়ের পূর্বানুমতিপত্র (NOC): প্লট/ফ্ল্যাট (রাজউক/ গণপূর্ত/ বোর্ডের জমি) রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বা বিসিক থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র (Allotment Letter) এবং হস্তান্তর বা বিক্রয়ের পূর্বানুমতিপত্র (NOC)।
১১। কোম্পানীর মেমোরেন্ডাম: কোম্পানীর নামে ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক জমি মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA), আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA), পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন (Board Resolution) এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাপত্র। ব্যাংক বন্ধকি জমি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্র বা অনাপত্তি সনদ (NOC)।
প্রয়োজনীয় দলিলটি একজন ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবির মাধ্যমে লেখিয়ে সরকার নির্ধারিত ফি ব্যাংকে এবং অনলাইনে চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দাতা বা বিক্রেতার উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি করা হয়।
.
বিশেষ পরামর্শ:
দলিল যাচাই, দলিল লেখা এবং দলিল রেজিস্ট্রির কাজগুলো অবশ্যই একজন ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেটকে দিয়ে করানোর চেষ্টা করবেন।
দলিল লেখা ও রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন-
শিশির ল’ এসোসিয়েটস
বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
01711068609 / 01540105088
সার্বিক পরিচালনায়-
এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
ভূমি ও কর আইন বিশেষজ্ঞ
মোবাইল- 01711068609