চেকের মামলায় অর্থদন্ড এবং কারাদন্ড শাস্তি দেওয়া হলে তারপর কারাদন্ড ভোগ করলে অর্থদন্ড দেওয়া লাগবে কিনা এই বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-
এই বিষয়ে এক কথায় উত্তর হচ্ছে না। শাস্তি ভোগ করলেও অর্থদন্ড মাফ হবে না।
চেক ডিজঅনার মামলায় আসামি মূল বা বিকল্প যেকোন কারাদণ্ড ভোগ করলেও বিজ্ঞ আদালতের ধার্যকৃত জরিমানা বা অর্থদণ্ড অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এই দায় থেকে সে রেহাই পাবে না। কারাদণ্ড ভোগ করা এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা দুইটি ভিন্ন আইনি বিষয়।
The Negitiable Instrument Act, 1881 -এর ১৩৮ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে উল্লেখ করা হলো-
আইনি ভিত্তি-
চেক ডিজঅনার মামলার আসামী আদালতের আদেশে মূল কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড পরিশোধ না করার কারণে অনাদায়ে কারাদণ্ড বা বিকল্প কারাদণ্ড উভয়ই ভোগ করলেও মূল অর্থদণ্ড বা জরিমানার টাকা মাফ হবে না।
অর্থ আদায়ের আইনি পদ্ধতি:
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত সাজাপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে জরিমানার টাকা আদায় করার জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারেন।
কালেক্টরের মাধ্যমে আদায়:
আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টর (জেলা প্রশাসক) উক্ত অর্থ বকেয়া ভূমির রাজস্বের (Arrears of Land Revenue) মতো পদ্ধতিতে আদায় করতে পারবেন।
আপিলের ক্ষেত্রে জমাকৃত অর্থ:
চেক ডিজঅনার মামলায় এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮(ক) ধারা অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ আসামী আদালতের রায় বা দন্ড চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করতে চাইলে তাকে চেকে উল্লেখিত টাকার কমপক্ষে ৫০% বিচারিক আদালতে জমা দিতে হয়। অবশিষ্ট ৫০% অর্থ এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আপিলের চুড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করে।
যেকোন আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন-
শিশির এন্ড এসোসিয়েটস
এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
ভূমি ও কর বিশেষজ্ঞ
01711068609 (Whatsapp)
01540105088