বন্টন মামলার আরজি

বন্টন বা বাটোয়ারা মামলার আরজির নমুনা

 

মোকাম: বিজ্ঞ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা।

দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৪১৮/২০২৬

 

১। শেখ মোহাম্মদ আলি,

পিতা-মৃত ইমাম হোসেন, মাতা-মৃত হোসনে আরা বেগম,

সাং-বাড়ি-৩০, রোড-১০, ডি.আই.টি প্রজেক্ট, মেরুল         বাড্ডা, ঢাকা। এন.আই.ডি নং-৮৭৩ ২৮৬ ৮৭১৯

পাসপোর্ট নং (USA)- A36077140

ফোন নম্বর: +1(305)570-8965 (Whatsapp)

এর পক্ষে নিযুক্তীয় আম-মোক্তার

সালমা আফরিন, পিতা- সালাউদ্দীন আহমেদ, মাতা- মোসাঃ রুবি বেগম, সাং- বাড়ি-৩৫, রোড-৬, বনশ্রী,    রামপুরা, ঢাকা, এন.আই.ডি নম্বর-৫০৫ ১৩৩ ২০১২,        মোবাইল নম্বর- ০১৭৪৩-৩৭৬৭০২

——————-বাদী।

 

=বনাম=

 

১। শেখ মরিয়ম,

২। হাসিনা ইমাম,

সর্ব পিতা-মৃত ইমাম হোসেন, মাতা-হোসনে আরা বেগম,

সাং-বাড়ি-৩০, রোড-১০, ডি.আই.টি প্রজেক্ট, মেরুল         বাড্ডা, ঢাকা।

————————বিবাদীদ্বয়।

 

এজমালী সম্পত্তি বণ্টনের মোকদ্দমা।

 

সমূদয় সম্পত্তির মূল্য- ৮,০০,০০,০০০/ (আট      কোটি) টাকা।        বাদীর প্রার্থিত অংশের        মূল্য- ৪,০০,০০,০০০/- (চার কোটি)        টাকা।

 

বাদী পক্ষের বিনীত নিবেদন এই যে,

 

১।     নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি অতঃপর অত্র আরজিতে যাহা নালিশী সম্পত্তি বলিয়া উল্লেখ হইবে উহার ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত জিলা- ঢাকা, থানা- বাড্ডা, (সাবেক- গুলশান), সাব রেজিস্ট্রি অফিস গুলশান অধীন, মৌজা- বাড্ডাস্থিত, সাবেক ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (DIT), বর্তমানে- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকার লে-আউট প্ল্যান মোতাবেক  ১০ (দশ) নং রাস্তার ৩০ (তিরিশ) নং ইমারতসহ প্লট যাহার জমির পরিমাণ ২ (দুই) কাঠা ৮ (আট) ছটাক জমি মোঃ মহব্বত আলী ভূঞার পুত্র মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা, রাজউক (সাবেক ডিআইটি) এর কর্মচারী হিসাবে বসবাস করার জন্য রাজউকের বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক রাজউকের বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকায় প্লট/জমি বরাদ্দ/লীজ পাওয়ার আশায় রাজউকের চাহিদা মোতাবেক আনুসাংগিক যাবতীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করিয়া বিগত ১৯/০৪/১৯৮৮ ইং তারিখে রাজউকে আবেদনপত্র দাখিল করিলে রাজউক তাহার আবেদন সহানুভূতির সহিত বিবেচনা করিয়া পরিচালক (এষ্টেট), রাজউক এর স্মারক নং-রাজউক/এষ্টেট/বাড্ডা/২১১-স্থাঃ তারিখ-২৫/০৫/১৯৯৬ ইং এর মাধ্যমে বাড্ডা পূনর্বাসন এলাকায় ২ কাঠা ৮ ছটাক আয়তনের ১৫নং রাস্তার ২২ নং প্লটটি বরাদ্দ করেন। মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ প্লটের ১ম কিস্তির টাকা রশিদ নং-৮০২ তারিখ- ৩১/০৭/১৯৯৬ ইং এর মাধ্যমে রাজউকের নির্ধারিত জনতা ব্যাংক, রাজউক ভবন শাখা, ঢাকায় জমা করিয়াছেন।

 

২।    অতঃপর মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে উপরোক্ত ১৫নং রাস্তার ২২ নং প্লটটি দেখা শুনা, তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনে বিক্রয়ের ক্ষমতাসহ অন্যান্য যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য বিগত ২৪/০৮/১৯৯৬ ইং তারিখে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রী অফিস, ঢাকায় রেজিস্ট্রীকৃত ১১২৩৪ নম্বর অপরিবর্তনীয় আম-মোক্তারনামা দলিল মূলে হাজী ইমাম হোসেন, পিতা- জনাব সেকান্দার আলী সরদার, সাং- তারাদিয়া, পোঃ-আহমেদপুর, থানা- হাজীগর, জেলা-চাঁদপুর, বর্তমানে সি/৮৮, লালকুঠি, ৩য় কলোনী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৮ কে আম-মোক্তার নিযুক্ত করতঃ উল্লেখিত আম-মোক্তারকে বর্ণিত প্লটের আম-মোক্তার হিসাবে গ্রহণ করার জন্য বিগত ২৬/০১/১৯৯৭ ইং তারিখে উপ-পরিচালক (এস্টেট), রাজউক বরাবরে আবেদন করিলে উপ-পরিচালক (এস্টেট), রাজউক তাহার স্মারক নং-রাজউক/এস্টেট/১৪৭-স্থাঃ তারিখ- ২৩/০৩/১৯৯৭ ইং এর মাধ্যমে তফশিল বর্ণিত প্লটের আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন, পিতা-জনাব সেকান্দর আলী সরদারকে আম-মোক্তারনামা দলিলের যাবতীয় কার্যাদি করার অনুমোদন প্রদান করেন।

 

৩।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুক্তীয় আম মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন, পিতা-জনাব সেকান্দর আলী সরদার বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকার ১৫নং রাস্তার ২২ নং প্লটটি পরিবর্তন করে অন্য একটি প্লট বরাদ্দ করার আবেদনের প্রেক্ষিতে উপ পরিচালক (এস্টেট), রাজউক স্মারক নং- রাজউক/এস্টেট/১৩১৮-স্থাঃ, তারিখ- ২০/০৪/৯৮ ইং এর মাধ্যমে একই এলাকায় সম-আয়তনের ১০নং রাস্তার ৩০ নং প্লটটি বরাদ্দ করেন।

 

৪।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুক্তীয় আম মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন বিগত ২৩/০৭/৯৮ ইং তারিখে প্লটের দখল সরেজমিনে বুঝিয়া নিয়াছেন তাহাতে প্লটের আয়তনের কোন পরিবর্তন হয় নাই। প্লটের বাকী ২য়, ৩য় ও ৪র্থ কিস্তির টাকা একসাথে একত্রে বিগত ২৬/০৭/৯৮ ইং তারিখে ৩০২৯৯ নম্বর রশিদের মাধ্যমে রাজউকের নির্ধারিত জনতা ব্যাংক, রাজউক ভবন শাখা, ঢাকায় জয়া করিয়াছেন।

 

৫।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুক্তীয় আম মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন এর মাধ্যমে মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা বিগত ১০/০৮/৯৮ ইং তারিখে সম্পাদিত লীজ দলিল রাজউকে দাখিল করিয়াছেন এবং বিগত ১৮/০৮/৯৮ ইং তারিখে গুলশান সাব রেজিস্ট্রী অফিস, ঢাকায় ১২৩৭৮ নম্বর লীজ দলিল মূলে মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এবং রাজউকের মধ্যে লীজ দলিল রেজিস্ট্রী করিয়া নিয়াছেন যাহা ৯৯ (নিরানব্বই) বৎসর মেয়াদের জন্য বলবৎ।

 

৬।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুত্তীয় আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন রাজউকের নিয়ম মাফিক বিগত ২৩/০৮/৯৮ ইং তারিখে রাজউকের নকশা অনুমোদন শাখায় আবেদন দাখিল করেন। রাজউক অথরাইজড অফিসার, রাজউক দপ্তর হইতে তাঁহাদের স্মারক নং-রাজউক/নঅঅ/৩সি-২১৮৭/৯৮/২৫৮১-স্থাঃ তারিখ- ০৪/১০/১৯৯৮ ইং এর মাধ্যমে নক্সা অনুমোদন করিয়া দিয়াছেন। মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুত্তীয় আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন রাজউক কর্তৃক অনুমোদিত নকসা মোতাবেক প্লটে বসবাস যোগ্য একটি ইমারত নির্মাণ করিয়াছে এবং মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা একক মালিক ও দখলকার হইয়া পরম শান্তিতে ভোগ দখলরত থাকিয়া আসিতেছেন।

 

৭।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুত্তীয় আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন, মিসেস হোসনে আরা বেগম এর বরাবরে বিক্রয়ের জন্য সহ-পরিচালক (এস্টেট) রাজউক এর নিকট অনুমতি চাহিলে রাজউক স্মারক নং রাজউক/এস্টেট/১৫৮০- স্থাঃ তারিখ-০৮/০৬/১৯৯৯ ইং মূলে হস্তান্তর ফিস ও সার্ভিস চার্জ প্রদানের নির্দেশ দিলে রশিদ নং ৩০৪৮২ এবং ৫৮৪৮, তারিখ ০৮/০৬/১৯৯৯ ইং এর মাধ্যমে হস্তান্তর ফিস ও সার্ভিস চার্জ প্রদান করেন।

 

৮।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুত্তীয় আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন, হস্তান্তর ফিস ও সার্ভিস চার্জ জমা করার ব্যাংক রশিদের সত্যায়িত ফটোকপি বিগত ০৮/০৬/১৯৯৯ ইং তারিখে দাখিল করিলে সহ-পরিচালক (এস্টেট), রাজউক স্মারক নং-রাজউক/এষ্টেট/১৫৮২-স্থাঃ তারিখ-০৮/০৬/১৯৯৯ ইং মূলে ‘ক’ তফসিল বর্ণিত ইমারতসহ সম্পত্তি ২,৭০,০০০/- (দুই লক্ষ সত্তর হাজার) টাকায় মিসেস হোসনে আরা বেগম এর বরাবরে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে হস্তান্তর দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা এর পক্ষে নিযুত্তীয় আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেনকে অনুমতি প্রদান করেন।

 

৯।    মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ ভূঞা উপরোক্তভাবে মালিক ও ভোগদখলকার থাকাবস্থায় তাহার নিযুক্ত আম-মোক্তার হাজী ইমাম হোসেন এর মাধ্যমে ‘ক’ তফসিল বর্ণিত ইমারতসহ সম্পত্তি রাজউক স্মারক নং-রাজউক/এষ্টেট/১৫৮২-স্থাঃ তারিখ-০৮/০৬/১৯৯৯ ইং মূলে বিক্রয়ের অনুমতি প্রাপ্ত হইয়া গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত ১৯/০৭/১৯৯৯ ইং তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ১০৪৭৬ নং সাফ কবলা-হস্তান্তর দলিল এর মাধ্যমে মিসেস হোসনে আরা বেগম এর বরাবরে বিক্রয় করিয়া এবং উহার দখল বুঝাইয়া দিয়া চিরতরে নিস্বঃত্ববান হইলে মিসেস হোসনে আরা বেগম মালিক নিয়ত হন।

 

১০।   অতঃপর মিসেস হোসনে আরা বেগম ‘ক’ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে উপরোক্তভাবে মালিক ও ভোগদখলকার থাকাবস্থায় বিগত ৩১/০৩/২০১২ ইং তারিখে পরলোকগমন করিলে তৎত্যাজ্যবিত্তে অর্থাৎ ‘ক’ তফসিল বর্ণিত ভূমি, ফ্ল্যাটসমূহ এবং ফার্নিচার সম্পত্তিতে তাহার স্বামী হাজী ইমাম হোসেন, দুই পুত্র শেখ মোহাম্মদ আলী, রেদওয়ান ইমাম এবং দুই কন্যা শেখ মরিয়ম ও হাসিনা ইমাম ওয়ারিশ হিসাবে বিদ্যমান থাকেন। তম্মদ্ধে স্বামী হাজী ইমাম হোসেন বিগত ১৭/১০/২০১২ ইং তারিখে এবং এক পুত্র রেদওয়ান ইমাম (অবিবাহিত অবস্থায়) বিগত ২৫/১২/২০১৬ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করিলে সর্বশেষ ওয়ারিশ হিসাবে বর্তমানে এক পুত্র (১) শেখ মোহাম্মদ আলী এবং দুই কন্যা (২) শেখ মরিয়ম ও (৩) হাসিনা ইমাম মালিক হিসাবে বিদ্যমান আছেন।

 

১১।   অপরদিকে ‘খ’ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিটির সি.এস রেকর্ডীয় মালিক নজর মাহমুদ মৃত্যুবরণ করিলে তৎত্যাজ্যবিত্ত্বে তাহার চার পুত্র (১) চাঁন মিয়া ওরফে নজু মিয়া, (২) হাবিব উল্লা, (৩) ওয়াকিব মিয়া ও (৪) সোনা মিয়া ওয়ারিশ হিসাবে মালিক নিয়ত হন এবং তাহাদের নাম এস.এ খতিয়ানে শুদ্ধভাবে রেকর্ডভূক্ত হয়। পরবর্তীতে ওয়ারিশি এবং এস.এ রেকর্ডীয় মালিক হাবিব উল্লা গং এর ওয়ারিশগণ নাজির আহামেদ গং গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত আমমোক্তারনামা দলিল নং ১২৬৬৮ তারিখ ২৮/০৯/২০০৩, দলিল নং ৭৭৯৩ তারিখ ১৯/০৫/২০০৫ এবং দলিল নং ৬৫৪৬ তারিখ ১০/০৮/২০০৮ ইং এর মাধ্যমে এপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণের নিমিত্তে সুবাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (যাহার অফিস ৬৯/১, পান্থপথ, গ্রীনরোড, ঢাকা-১২০৫) কে ক্ষমতা প্রদান করেন।

 

১২।   অতঃপর সুবাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া তথায় এপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করিয়া তফসিল বর্ণিত ফ্ল্যাটটি সুবাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমূল হক খান বিগত ১২/০৫/২০০৯ ইং তারিখে গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৩৭১০ নং সাফ কবলা দলিল মূলে অত্র বাদী এবং বিবাদীদ্বয়ের পিতা হাজী ইমাম হোসেন, পিতা- মরহুম সেকান্দার আলী সরদার এর নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া দিয়া চিরতরে নিঃস্বত্ববান হন। হাজী ইমাম হোসেন ক্রয় সূত্রে মালিক নিয়ত নিরঙ্কুশ ভোগ দখলে বিদ্যমান থাকাবস্থায় বিগত ১৭/১০/২০১২ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করিলে তাহার এক স্ত্রী (২য় স্ত্রী) শান্তা আক্তার (হাজেরা খাতুন), এক পুত্র অত্র বাদী শেখ মোহাম্মদ আলী এবং দুই কন্যা অত্র বিবাদীদ্বয় শেখ মরিয়ম ও হাসিনা ইমাম ওয়ারিশ সূত্রে মালিক নিয়ত হন। অতঃপর শান্তা আক্তার (হাজেরা খাতুন) স্ত্রী হিসাবে তাহার প্রাপ্ত অংশ (অবিভক্ত ও অচিহ্নিত ৩.৩২ অযুতাংশ ও ১৪৬.২৫ বর্গফুট ফ্ল্যাট) বিগত ১৭/১১/২০১৩ ইং তারিখে গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৮০৫০ নং সাফ কবলা দলিল মূলে অত্র বাদী শেখ মোহাম্মদ আলী এর নিকট বিক্রয় করিয়া দিয়া চিরতরে নিঃস্বত্ববান হইলে উক্ত ফ্ল্যাটের বর্তমানে অত্র বাদী এবং বিবাদীদ্বয় মালিক নিয়ত হন।

 

১৩।   মিসেস হোসনে আরা বেগম এবং হাজী ইমাম হোসেন এর বিদ্যমান ওয়ারিশগণ এক পূত্র (১) শেখ মোহাম্মদ আলী এবং দুই কন্যা (২) শেখ মরিয়ম ও (৩) হাসিনা ইমাম ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে এজমালীতে মালিক হওয়া স্বত্বেও অত্র বিবাদীদ্বয় বিগত ০১/০১/২০২৫ ইং তারিখ হইতে ভাড়া উত্তোলন করিয়া প্রাপ্ত ভাড়া সম্পূর্ণ ভোগ করিয়া আমেরিকা প্রবাসী অত্র বাদীকে বঞ্চিত করিতেছেন। অত্র বাদী তাহার অংশ বুঝাইয়া দেওয়ার অনুরোধ করিলে, বিবাদীদ্বয়কে বিভিন্ন অযুহাত দেখাইয়া কালক্ষেপণ করিয়া সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত ভাড়াসহ সকল সুবিধাদি দীর্ঘকাল যাবৎ ভোগ করিতেছেন।

 

১৪।   মিসেস হোসনে আরা বেগম এর ত্যক্ত ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে, বাদী এবং বিবাদীদ্বয়ের ছাহাম প্রাপ্ত অংশের বন্টন চিত্র ছক আকারে নিম্নে প্রদর্শন করা হইলো:

 

‘ক’ তফসিলভূক্ত ২ কাঠা ৮ ছটাক বা ৪১২ অযুতাংশ জমির ছাহাম বন্টন নিম্নরূপ-

ওয়ারিশগণের নাম হোসনে আরা বেগমের সাথে সম্পর্ক হিস্যা ছাহাম প্রাপ্ত অংশ
শেখ মোহাম্মদ আলী পূত্র ৫০০ ২০৬ অযুতাংশ
শেখ মরিয়ম কন্যা ২৫০ ১০৩ অযুতাংশ
হাসিনা ইমাম কন্যা ২৫০ ১০৩ অযুতাংশ
মোট ১০০০ ৪১২ অযুতাংশ

 

‘ক’ তফসিলভূক্ত ফ্ল্যাটসমূহের ছাহাম বন্টন নিম্নরূপ-

ফ্লোর শেখ মোহাম্মদ আলী শেখ মরিয়ম হাসিনা ইমাম
৭ম তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট —- দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট
৬ষ্ট তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট
৫ম তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট —- দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট
৪র্থ তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট —-
৩য় তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট —- দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট
২য় তলা উত্তর দিকের ১টি ফ্ল্যাট দক্ষিণ দিকের ১টি ফ্ল্যাট —-
নিচ তলা পশ্চিম দিকের দোকান পূর্ব দিকের দোকান ৫০% পূর্ব দিকের দোকান ৫০%

 

‘ক’ তফসিলভূক্ত ফার্নিচারের ছাহাম বন্টন নিম্নরূপ-

মিসেস হোসনে আরা বেগমের ত্যক্ত প্রায় ২০,০০,০০০/- টাকার ফার্নিচারের মধ্যে ১০,০০,০০০/- টাকার ফার্নিচার শেখ মোহাম্মদ আলী, ৫,০০,০০০/- টাকা ফার্নিচার শেখ মরিয়ম এবং ৫,০০,০০০/- টাকা ফার্নিচার হাসিনা ইমাম প্রাপ্ত হইবেন।

 

‘খ’ তফসিলভূক্ত ১১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং এর ছাহাম বন্টন নিম্নরূপ-

ওয়ারিশগণের নাম হোসনে আরা বেগমের সাথে সম্পর্ক ভূমি (অযুতাংশ) ফ্ল্যাট (বর্গফুট) কার পার্কিং
শেখ মোহাম্মদ আলী পূত্র হিসাবে  ১১.৬৬ ৫১১.৮৭ ১/২ অংশ
ক্রয় সূত্রে ৩.৩২ ১৪৬.২৫
শেখ মরিয়ম কন্যা হিসাবে ৫.৮২ ২৫৫.৯৪ ১/৪ অংশ
হাসিনা ইমাম কন্যা হিসাবে ৫.৮২ ২৫৫.৯৪ ১/৪ অংশ
মোট ২৬.৬২ ১১৭০

 

১৪।   অত্র আরজির উপরিউক্ত বর্ণনা অনুযায়ী বাদী বর্ণিত মিসেস হোসনে আরা বেগমের অধস্তন ওয়ারিশ হিসাবে ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল বর্ণিত নালিশী সম্পত্তির অর্ধেক অংশের মালিক ও স্বত্বাধিকারী। কিন্তু বিবাদীদ্বয় বাদীকে তাহাদের প্রাপ্য সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত করিয়া বিবাদীদ্বয় ভাড়া উত্তোলন করিয়া ভোগ করিতেছেন। সমুদয় নালিশী সম্পত্তি এজমালিতে থাকায় এবং বাদী ও বিবাদীদ্বয়ের মধ্যে নালিশী সম্পত্তি বাই মিটস অ্যান্ড বাউন্ড (By metes and bounds) কখনও ভাগ-বন্টন না হওয়ায় বাদী তাহার প্রাপ্যাংশ সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। তদুপরি নালিশী সম্পত্তি এজমালিতে থাকায় উক্ত সম্পত্তির দেয় খাজনা ট্যাক্সাদি এজমালিতে থাকায় তাহা পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাদী-বিবাদীদ্বয়ের মধ্যে সর্বদাই মতানৈক্য দেখা দেয় এবং উক্ত বিষয়ে কথা কাটাকাটি তথা ঝগড়া-বিবাদ পর্যন্ত গড়ায়। যাহা পারিবারিক শান্তি ও শৃংখলার পরিপন্থী।

 

১৫।   নালিশী সম্পত্তি এজমালী সম্পত্তি হেতু এবং উক্ত সম্পত্তি পক্ষগণের মধ্যে আইনানুযায়ী কোন ভাগ-বন্টন না হওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে এজমালী সম্পত্তি ভোগ-দখলের নিমিত্তে এবং ভবিষ্যৎ অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ এড়াইবার লক্ষ্যে বাদী, বিবাদীদ্বয়কে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে নালিশী সম্পত্তি বণ্টন করিয়া দিতে ও লইতে অনুরোধ করিলে সর্বশেষ বিগত ১১/০৫/২০২৬ ইং তারিখে ১ ও ২নং বিবাদী শেখ মরিয়ম ও হাসিনা ইমাম, শেখ মরিয়মের স্বামী ডা: মো: শাহনেওয়াজ এবং একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর উপস্থিতিতে ডি.আই.টি প্রজেক্টের মালিক সমিতির (দক্ষিণ বারিধারা সোসাইটি কল্যাণ ট্রাষ্ট) কনফারেন্স রুমে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিবাদীদ্বয় উক্তরূপ বণ্টন করিয়া দিতে ও লইতে সরাসরি অস্বীকার করেন। ১ ও ২নং বিবাদীদ্বয় নালিশী সম্পত্তি বণ্টন করিয়া দিতে ও লইতে অস্বীকার করায় বাদী অত্রাকারে বন্টনের ডিক্রির প্রার্থনায় বর্তমান মোকদ্দমাটি দায়ের করিতে বাধ্য হইলেন।

 

১৬।   মোকদ্দমার কারণঃ– তফসিল বর্ণিত নালিশী সম্পত্তি পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ইতোপূর্বে বাই মিটস অ্যান্ড বাউন্ড ভাগ-বন্টন না হইবার কারণে অত্র মোকদ্দমার বণ্টনের নালিশের কারণ সর্বদাই বিদ্যমান রহিয়াছে। কিন্তু তবুও বাদী কর্তৃক বিবাদীদ্বয়কে নালিশী সম্পত্তি বণ্টন করিয়া দিতে ও লইতে অনুরোধ করিলে বিবাদীদ্বয় তাহা সরাসরি অস্বীকার করায় অত্র মোকদ্দমার কারণ বিগত ১৩/০৫/২০২৬ ইং তারিখে অত্রাদালতের এলাকাধীন বাড্ডা থানার অন্তর্গত বাড্ডা মৌজাস্থিত ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিল বর্ণিত নালিশী সম্পত্তিতে অত্র মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হইয়া এখনও বিদ্যমান আছে।

 

১৭।   মোকদ্দমার মূল্যায়নঃ– সমুদয় নালিশী সম্পত্তির আনুমানিক বাজার মূল্য =৮,০০,০০,০০০/= (আট কোটি) টাকা ধার্য করিয়া যেহেতু বাদী এবং বিবাদীগণ নালিশী সম্পত্তিতে এজমালিতে ভোগ দখলে আছেন সেইহেতু বাদীগণের ছাহামের মূল্য =৪,০০,০০,০০০/ (চার কোটি) টাকা ধার্য্য করিয়া নির্ধারিত তথা ঠিকা টাকার কোর্ট ফি প্রদান পূর্বক বর্তমান মোকদ্দমাটি দায়ের করা হইলো।

 

অতএব বাদীর বিনীত প্রার্থনা হুজুরাদালত দয়া করিয়াঃ-

 

(ক) ‘ক’ তফসিল বর্ণিত নালিশী সমুদয় সম্পত্তির মধ্যে বাদী ২০৬ অযুতাংশ জমি, ৬টি ফ্ল্যাট, ১টি দকান ও ১০ লক্ষ টাকার ফার্নিচার এবং ‘খ’ তফসিল বর্ণিত নালিশী সমুদয় সম্পত্তির মধ্যে বাদী ১৪.৯৮ অযুতাংশ জমি, ৬৫৮.১২ বর্গফুট ফ্ল্যাট এবং অর্ধেক কার পার্কিং সম্পত্তি সম্পর্কে বাদীর অনুকূলে বিবাদীদ্বয়ের প্রতিকূলে বণ্টনের প্রাথমিক এক ডিক্রি দিতে অথবা আরজিতে বর্ণিত বিবরণ ও পক্ষগণের স্বত্ব বিবেচনা করিয়া নালিশী সম্পত্তিসমূহে       বাদী ও বিবাদীদ্বয়ের কাহার কত অংশ সাহাম রহিয়াছে উহা নির্ধারণপূর্বক বাদীর অনুকূলে এবং বিবাদীগণের প্রতিকূলে একটি প্রাথমিক বন্টন ডিক্রি প্রদান করিতে  ;

 

এবং

 

(খ) একজন সার্ভে আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট-     কমিশনার নিয়োগপূর্বক তাহার দ্বারা তফসিল বর্ণিত     সম্পত্তিসমূহ সরেজমিনে পরিমাপ করতঃ নালিশী        সম্পত্তির বাদীর প্রাপ্ত অংশ সম্পত্তির তুল্য-মূল্য ও   গৌরবের এক বা একাধিক লপ্ত ও সুবিধাজনক ছাহাম নির্দিষ্ট করিয়া এবং বাদীর বর্তমান দখল ঠিক রাখিয়া        এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির সকল প্রকার বাঁধা-বিপত্তি    অপসারণ পূর্বক বাদীকে উহার খাস দখল দিতে;

এবং

 

(গ) অ্যাডভোকেট কমিশনারের রিপোর্ট/প্রতিবেদন গ্রহণ    করিয়া এবং উক্ত রিপোর্ট/প্রতিবেদন ডিক্রীর একাংশ   গণ্যে চূড়ান্ত ডিক্রী প্রদান করিতে আজ্ঞা হয়;

 

এবং

 

(ঘ) মোকদ্দমার যাবতীয় খরচের ডিক্রি বাদীর       অনুকূলে এবং বিবাদীগণের প্রতিকূলে দিতে;

 

এবং

 

(ঙ) আইন ও ইকুইটি মোতাবেক বাদী আর যেসকল        প্রতিকার পাইবার অধিকারী হয় তদবিষয়ে যথোপোযুক্ত ডিক্রি প্রদান করিতে মর্জি হয়।

 

 

নালিশী সম্পত্তির তফসিলঃ–

 

তফসিল-‘ক’

জিলা- ঢাকা, থানা- বাড্ডা, (সাবেক- গুলশান), সাব রেজিস্ট্রি অফিস গুলশান অধীন, মৌজা- বাড্ডাস্থিত, সাবেক ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (DIT), বর্তমানে- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকার লে-আউট প্ল্যান মোতাবেক  ১০ (দশ) নং রাস্তার ৩০ (তিরিশ) নং ইমারতসহ প্লট। যাহার জমির পরিমাণ ২ (দুই) কাঠা ৮ (আট) ছটাক জমি, তদস্থিত ৭ তলা বিশিষ্ট এমারতের ফ্ল্যাটসমূহ এবং উক্ত বাড়ীতে মিসেস হোসনে আরা বেগমের ত্যক্ত প্রায় ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা মূল্যের আসবাব পত্র অত্র নালিশী সম্পত্তি বটে।

 

চৌহদ্দি-

উত্তরে- রাস্তা নং ১০,  দক্ষিনে- প্লট নং ২৭,
 পূর্বে- প্লট নং ৩২, পশ্চিমে- প্লট নং ২৮,

 

তফসিল-‘খ’

জেলা ঢাকার গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর ওয়ার্ডের ভাটারা মৌজাস্থিত জে.এল নং- সি.এস- ২৯৪, এস.এ- ১২৮, আর.এস- ৩২।

 

খতিয়ান নং- সি.এস- ৩১৩, এস.এ- ২৯৭ ও ১৬৯, আর.এস- ৬৫৫, ৯৮০, ১৪৭১ ও ১৫৪৮ আর.এস নামজারী খতিয়ান নং- ৭১৭৯।

 

দাগ নং- সি.এস- ১০৭১, এস.এ- ১০৭১, আর.এস- ১১৭৮ যাহার জোত নং- ৫০/২২, আর.এস দাগে মোট জমি ২.৪২ একর উহার কাতে অচিহ্নিত ও অবিভক্ত ২৬.৬২ অযুতাংশ ভূমিসহ মোট ১১৭০ বর্গফুট আয়তনের ১টি ফ্ল্যাট যাহা সুবাস্তু নজর ভ্যালী নামীয় ১৭ তলা বিশিষ্ট এপার্টমেন্টের ৫ নং টাওয়ারের ৭ম তলায় ৬-এফ২ নং ফ্ল্যাট ও একটি কার পার্কিং অত্র নালিশী সম্পত্তি বটে।

 

চৌহদ্দি-

উত্তরেঃ- দক্ষিনেঃ-
 পূর্বেঃ- পশ্চিমেঃ-

 

 

সত্যপাঠঃ-

অত্র আরজির সকল বিবরণ আমাদের কথামত লেখা        হইয়াছে জানিয়া উহার সত্যতা স্বীকারে অত্র সত্যপাঠে আমার আইনজীবী সাহেবের চেম্বারে বসিয়া আমি বাদীর পক্ষে নিযুক্তীয় আম-মোক্তার অত্র সত্যপাঠে দস্তখত প্রদান করিলাম।

 

 

———————–

(সালমা আফরিন)

 

যোগাযোগ:

এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদীন (শিশির)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

রোড-৫, ব্লক-এ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা

01711068609 (Whatsapp)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *