বণ্টন মোকদ্দমায় বিবাদী পক্ষের ছাহামের দরখাস্ত
মোকাম- বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা।
সূত্রঃ দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- /২০১৫
আঃ মান্নান সং ……………… বাদী।
=বনাম=
আফির উদ্দিন প্রধান গং ……………. বিবাদী।
১ হইতে ৮ নং বিবাদী দলিল উদ্দিন গং এর ছাহামের দরখাস্ত।
বিনীত নিবেদন এই যে,
১। অত্র মোকদ্দমা বর্তমান আকারে, প্রকারে ও আইনতঃ রক্ষনীয় নহে।
২। অত্র মোকদ্দমা পক্ষ দোষে দুষ্ট।
৩। অত্র মোকদ্দমা এস্টোপেল, ওয়েভার ও একুইসেন্স দোষে দুষ্ট।
৪। আরজীর ১ নং অনুচ্ছেদে জোয়ার সাহারা মৌজায় ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের জনি জমাতে হযরত আলী ও কাসিম আলী প্রত্যেকে আট আনা অংশে মালিক থাকা সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিবাদীগন কর্তৃক অস্বীকৃত বটে।
৫। আরজির ২ নং অনুচ্ছেদে ৪০৮ নং খতিয়ানে হযরত আলী ও কাসিম আলী প্রত্যেকে ১৯.৯০ একরের আট আনা অংশে মালিক হওয়া কিংবা পারিবারিক মৌখিক আপোষ বন্টন মতে কাসিম আলী ৯.৯৫ একর জমিতে মালিক থাকা সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিবাদীগন কর্তৃক অস্বীকৃত বটে। উক্ত অনুচ্ছেদে কাসিম আলী ২৮/০১/৪৯ ইং তারিখের ৪৮০ নং দলিল মূলে ৭০ শতাংশ জমি ৭ নং বিবাদী শেখ পন্ডিত মিয়ার নিকট বিক্রয় করা সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিবাদীগন কর্তৃক স্বীকৃত বটে। উক্ত অনুচ্ছেদে কাসিম আলী ০৫/০১/৪২ ইং তারিখের ৫৩ নং দলিল মূলে কাসিম আলীর প্রাপ্ত ভূমি হইতে ৬ আনা ৮ গন্ডা অংশে ৩.৭৩ একর কুলসুম নেছার নিকট বিক্রী করা এবং কাসিম আলী ৫.৫২ একর জমিতে মালিক থাকাবস্থায় ২ পুত্র ও ১ কন্যা বাদীগনকে রাখিয়া মারা যাওয়া এবং বাদীগন ৫.৫২ একর জমির মালিক হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিবাদীগন কর্তৃক অস্বীকৃত বটে।
৬। আরজির ৩ নং অনুচ্ছেদে বাদীগন বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করা এবং নালিশী সম্পত্তির কাগজ পত্র সঠিক ভাবে সংরক্ষন করা সম্ভবপর না হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিবাদী কর্তৃক অস্বীকৃত বটে।
৭। আরজির ৪ নং অনুচ্ছেদে ১-৬ নং বিবাদীগন মহানগর জরিপে জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহিত যোগসাজসে মহানগর পর্চা করিয়া নেওযা সংক্রান্ত বর্ননার সত্যতা প্রমানের দায়িত্ব বাদীর।
৮। আরজির ৫ নং অনুচ্ছেদে আঃ আজিজ মাষ্টার ১-৬ নং বিবাদীগনের পূর্ববর্তী বছির উদ্দিনের সহিত তঞ্চকতা মূলে ১১/১২/৫০ইং তারিখের ৫৯৭২ নং দলিল রেজিষ্ট্রি করা ইত্যকার বর্ণনা প্রমানের দায়িত্ব বাদীর।
৯। আরজির ৬ নং অনুচ্ছেদে আঃ আজিজ মাষ্টার এবং বছির উদ্দিন যথাক্রমে ৪০৮ নং খতিয়ানে বানীগনের সম্পত্তি দলিলে উল্লেখ করিয়া নেওয়া এবং ‘খ’ তফসিল বর্ণিত দলিলগুলি তঞ্চকতা ও শঠতামূলক হওয়া ইত্যাকার যাবতীয় বর্ণনার সত্যতা প্রমানের দায়িত্ব বাদীত্ব।
১০। আরজির গনং অনুচ্ছেদে ১-৬ নং বিবাদীগনের পূর্ববর্তী বছির উদ্দিন মাতবর ‘খ’ তফসিলে বর্ণিত দুইটি দলিলের বরাতে শেখ পন্ডিত মিয়া এবং কুলসুম নেছার সম্পত্তি দাবী করা সংক্রান্ত কর্ণধার সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব বাদীর।
১১। আরজির ৮ নং অনুচ্ছেদে বাদীপক্ষ ‘ক’ তফসিরে ৫.৫২ একর জমিতে মালিক হওয়া এবং ত’ তফসিলের সম্পত্তি মহানগর জরিপে ১-৬ নং বিবাদীগনের নাথে তুলে রেকর্ড হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনার সত্যতা প্রমানের দায়িত্ব বাদীর। উক্ত অনুচ্ছেদে বাদীপক্ষ বহুবার তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি ব দেওয়ার জন্য বিবাদী পক্ষকে অনুরোধ করা সংক্রান্ত বর্ণনা এই বিকৃ
১২। আরজির ৯ নং অনুচ্ছেদের বর্ণনা সম্পর্কে এই বিধাবীগনের কোন বক্তব্য সাই।
১৩। আরজির ১০ নং অনুচ্ছেদে ২০/০৬/১২ কিংবা ২০/০৭/১২ ইং তারিখে মোকদ্দমার কারন উত্তর হওয়া সংক্রান্ত বর্ণণার সত্যতা প্রমানের দায়িত্ব বাণীর।
১৪। আরজির ১১ নং অনুচ্ছেদে ৫.৫২ একর জমি মোকদ্দমায় আনা সঠিক নহে। বাদীপক্ষকে ৪০৮ নং খতিয়ানের সম্পূর্ণ ১৯.৯০ একর জমি মোকদ্দমায় আনিতে হইবে।
১৫। বাদীপক্ষ আরজির ১২ নং অনুচ্ছেদে যে সমস্ত প্রতিকার প্রার্থনা করিয়াছেন সেসব তাহারা পাইতে পারেন না।
১৬। আবজির যে সমস্ত বর্ণনা এই জবাবে পরিস্কার ভাবে আলোচিত ও স্বীকৃত হয় নাই তৎসমুদয় এই বিবাদীগন কর্তৃক অস্বীকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।
১৭। প্রকৃত বৃত্তান্ত এই যে,
ক) আরজির ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত জোয়ার সাহারা মৌজায় ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের মোট জমি ১৯.৯০ একর। ৪০৮ নং খতিয়ানের জোত হাবিবুল্লাহ রায়ত স্থিতিবান লেখা আছে। বাদীপক্ষ আরজির ১নং অনুচ্ছেদে ৪০৮ নং খতিয়ানের মালিক হযরত আলী ও কাসিম আলী প্রত্যেকে আট আনা অংশে ছিলেন মর্মে বলিয়াছেন তাহা সঠিক নহে।
খ) ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের জোতের মালিক হাবিবুল্লাহ মৃত্যুকালে ২ পুত্র হযরত আলী, কাসিম আলী এবং এক কন্যা ফুলজান বিবিকে রাখিয়া মারা যান। ফলে প্রত্যেক পুত্র অংশ এবং কন্যা অংশ।
গ) সি.এস ৪০৮ নং খতিয়ানের অত্র স্বত্বের বিবরণ ও দখলকার কলামে হযরত আলী, কাসিম আলী, পিতা-হবিউল্লাহ লেখা আছে। এই লিপি ভুল। প্রকৃত পক্ষে ৪০৮ নং খতিয়ানে হযরত আলী, কাসিম আলী এবং ফুলজনা বিবি ওরফে সেদী বিবি মালিক দখলকার ছিলেন।
ঘ) ৪০৮ নং খতিয়ানের জমি জমা কখনই হযরত আলী, কাসিম আলী এবং ফুলজান বিবির মধ্যে বিভাগ বন্টন হয় নাই। বাদী পক্ষ যে ৫.৫২ একর জমি মোকদ্দমায় আনিয়াছেন তাহা ভুল। বাদী পক্ষকে ৪০৮ নং খতিয়ানের সম্পূর্ণ ১৯.৯০ একর জমি মোকদ্দমায় আনিতে হইবে। ৫.৫২ একর জমি নিয়া অত্র মোকদ্দমা আইনতঃ অচল।
ঙ) এই বিবাদীগনের পূর্ববর্তী বির্তী ফুলজান বিবি বাদী হইয়া ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের জমি বন্টন সহ অন্যান্য প্রতিকারের প্রার্থনায় দেওয়ানী মোকদ্দমা ১৩৮/৯১ আনয়ন করেন। উক্ত মোকদ্দমায় হযরত আলী ও কাসিম আলীর ওয়ারিশগনকে বিবাদী করা হয় নাই।
চ) উক্ত মোকদ্দমায় ফুলজান বিবি, জোবেদা খাতুন এবং হযরত আলী দাতা সুচক এবং আঃ শুকুর গ্রহীতা সূচক ১৩/০১/১৯৩৮ ইং তারিখের ১৪০ নং দলির বাতিল সহ ৪০৮ নং খতিয়ানের জমি বন্টন প্রার্থনা করেন। উক্ত মোকদ্দমায় ফুলজান বিবি সাক্ষ্য দিয়া মারা গিয়াছেন।
ছ) এই বিবাদীগন ফুলজান বিবির ওয়ারিশ হিসাবে ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের ১৯.৯০ একর এর অংশ জমিতে এজমালীতে মালিক ও ভোগদখলকার।
জ) ৪০৮ নং সি.এস খতিয়ানের জমি জমা কখনই বিভাগ বন্টন হয় নাই। বাদীগনকে সি.এস ৪০৮ নং খতিয়ানের সম্পূর্ণ জমি মোকদ্দমায় আনিতে হইবে।
ঝ) অত্র মোকদ্দমা ডিক্রী হইলে এই বিবাদীগন তাহাদের পূর্ববর্তী ফুলজান বিবির প্রাপ্য অংশ বাবদ ছাহাম প্রার্থনা করেন এবং তৎবাবদে ৩০০/- (তিনশত) টাকার কোর্ট ফি প্রদান করেন।
উপরোক্ত অবস্থাধীনে প্রার্থনা ১- ৮ নং বিবাদীগণকে নালিশী সম্পত্তির অংশ বাবদ আলাদা ছাহাম প্রদানে মর্জি হয়।
ইতি, তাং-
সত্যপাঠ
উপরোক্ত বক্তব্য আমার আধ এবং বিশ্বাস হতে সত্য ও সঠিক জানিয়া আমার নিখুঁতীয় বিজ্ঞ আইনজীবী মহোদয়ের চেম্বারে ধনিয়া অত্র সত্যপাঠে নিম্ন নাম স্বাক্ষর করিলাম।
সত্যপাঠকারীর স্বাক্ষর