সিভিল রিভিশনের দরখাস্ত
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৭ আদেশের ১১ বিধি মোতাবেক আরজি খারিখের দরখাস্ত না-মঞ্জুর হলে উক্ত না-মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন করা যায়। নিম্নে সিভিল রিভিশনের দরখাস্তের নমুনা দেওয়া হলো-
.
মোকাম: বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত, ঢাকা।
সিভিল রিভিশন নং- /২০২৬
(দেঃ মোঃ নং-৪৮৫/২০২৫ হইতে উদ্ভব)
মোঃ শহীদুল কবির (শহীদ),
পিতা-মোঃ কবির আহম্মেদ
সাং- প্লট নং- ৩৬, রোড নং-০২, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
—————–বিবাদী/দরখাস্তকারী
=বনাম=
অ্যাবাকাস রেস্টুরেন্ট লিমিটেড,
পক্ষে- তদ্বীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক সীমার হোসেন, সাং-স্টার সেন্টার,
হাউজ নং-২, ব্লক-সি, রোড নং- ১৩৮, গুলশান-১, ঢাকা।
——————–বাদী/প্রতিপক্ষ
বিজ্ঞ আদালতের অধঃস্তন ঢাকার বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ৪র্থ আদালত বিবাদী/ দরখাস্তকারী কর্তৃক দাখিলী দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৭ আদেশের ১১ (ডি) নিয়মের বাদী পক্ষে আরজী খারিজের দরখাস্ত বিগত ১১/৯/২০২৩ ইং তারিখে নামঞ্জুর করায় বিবাদী/আপীলকারী পক্ষ ক্ষুদ্ধ ও অসন্তুই হইয়া উত্ত আদেশের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে নিম্নে উল্লেখিত কারণ ও হেতুবাদে অত্র রিভিশন আনয়ন করিলেন।
তায়দাদ- ১,১৫,০০০/- একলক্ষ পনেরো হাজার টাকা মাত্র।
বিবাদী/ আপীলকারী পক্ষের বিনীত বিনেদন এই যে,
১। বিবানী/দরখাস্তকারী পক্ষ বিজ্ঞ নিম্ন আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ আইনের ৭ আদেশের ১১(ডি) বিধিতে এক দরখাস্ত দায়ের করিয়া বাদী/ প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মোকদ্দমার আরজী খারিজের প্রার্থনা করেন।
২। বিবাদী/ দরখাস্তকারী পক্ষ আবজী খারিজের দরখাস্তের সমর্থনে উল্লেখ করেন যে, বাদী/ প্রতিপদ্ধ বিবানী/ দরখাস্তকারী পক্ষের একজন ভাড়াটিয়া তাহাদের মধ্যে বিগত ১৬/০৪/২০০৮ ইং তারিখে একটি ভাড়া চুক্তি সম্পাদিত হয়। বাদী ভাড়া চুক্তি বা Lease Agreement এর ১.০৩ নং দফার Arbitration Clause এর বিধান রয়েছে যে, “If there is any dispute between the parties they shall try to settle it amicably between themselves. It they fail to resolve the dispute amongst themselves the matter shall be resolved through the existing law of the land including the Arbitration Act now in force”.
৩। উপরোক্ত অবস্থাধীনে চুক্তিপত্রে আবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের মদ্যে যে কোন বিরোদে বিষয়ের Arbitration Act এর ৯ ধারায় বিধান মতে সরাসরি মোকদ্দমা দায়ের করার সুযোগ নাই। যেইরূপ কিছু করা হলে তাহা Arbitration Act এর ৭ ধারা মতে বারিত হবে।
৪। উপরোক্ত অবস্থাধীনে বাদী/ প্রতিপক্ষ Lease Agreement এর ১.০৩ দফায় বর্ণিত Arbitration Clause অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বা Arbitrator নিয়োগের জন্য আদালতের আশ্রয় গ্রহণ না করে সরাসরি মোকদ্দমা করায় Arbitration Act এর ৭ ধারার বিধান মতে বিবাদী অত্র মোকদ্দমাটি বারিত বিধায় মূল মোকদ্দমাটি খারিজেরন প্রার্থনা করেন।
৫। অপর দিকে বাদী/ প্রতিপক্ষ কোন লিখিত আপত্তি না দিয়অ মৌখিক ভাবে আরজী খারিজের দরখাস্ত নামঞ্জুর করার প্রার্থনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ১.০৩ দফায় Arbitration Clause থাকলেও উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে উক্ত চুক্তিপত্রে বর্ণিত Arbitration Clause অনুসরণ করার সুযোগ পান নাই এবং বাধ্য হয়ে অত্র মোকদ্দমা দায়ের করেন।
৬। উল্লেখিত কারণ সমূহ ও আইনের লংঘন নিম্ন আদালত বিবেচনা না করে বিবাদী/ দরখাস্তকারী পক্ষের দাখিলী আরজী খারিজের দরখাস্ত না মঞ্জুর করার বিবাদী/ দরখাস্তকারী পক্ষ নিম্নে উল্লেখিত হেতুবাদে অত্র সিভিল রিভিশন দায়ের করিলেন।
.
হেতুবাদ সমূহ
ক) বিজ্ঞ নিম্ন আদালত জুডিসিয়াল দৃষ্টিভঙ্গী প্রয়োগ না করিয়অ আবেগের বশবর্তী হইয়া তর্কিত আদেশ প্রদান করিয়াছেন বিধায় উহা রদ, রহিত যোগ্য।
খ) বাদী/প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মূল মোকদ্দমাটি বিদ্যমান Arbitration Act এর ৭ ধারার বিধান মধ্যে বারিত হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞ নিম্ন আদালত তর্কিত আদেশ দ্বারা আরজী খারিজের দরখাস্ত না মঞ্জুর করা উহা বদ ও বাতিল যোগ্য।
গ) বাদী/ প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি প্রচলিত আইনে Barred by law হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞ নিম্ন আদালত উক্ত বিষয়ে বিবেচনা না করিয়া তর্কিত আদেশ দ্বারা আরজী খারিজের দরখাস্ত নামঞ্জুর করার উক্ত আদেশ রদ ও রহিত যোগ্য।
ঘ) বিজ্ঞ আদালতে দায়েরকৃত কোন মোকদ্দমা আইনের সরাসরি সংখন হইলে বিচারিক আদালত উক্ত বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আইনতঃ বাধ্য হইয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞ নিম্ন আদালত তর্কিত আদেশ প্রদান করায় উহা বদ ও রহিত যোগ্য।
ঙ) বিজ্ঞ নিম্ন আদালত কর্তৃক সারজী খারিজের বিতর্কিত আদেশ কোন অংশেই উল্লেখ করেন বই যে কোন কারণে বানী/ প্রতিপক্ষ Actorsion Clause অনুসরণ না করে সরাসরি যোগদান দায়ের করিয়াছে। ফলে উক্ত আদেশ হব, রহিত যোগ্য।
5) Arbitration Clause অনুসরণ না করার কোন সঠিক ব্যাখ্যা বাদী/ প্রতিপক্ষ কর্তৃক বিজ আদালতে উপস্থাপন না করা সত্তেবও বিজ্ঞ নিম্ন আদালত আরজী খারিজের দরগায় না মধুর করায় প্রদত্ত আদেশ বদ ও রহিত যোগ্য।
ছ) উল্লেখিত কারণ ও হেতুবাদ সমূহ বাদে বক্রী হেতুবাদ সমূহ শুনানী কালে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হইবে।
অতএব বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, ব্যায় বিচারের স্বার্থে ও উপরোক্ত কারণাধীনে অত্র ডিভিশন মোকদ্দমাটি মঞ্জুরক্রমে ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ ৪র্থ আদালত কর্তৃক বিবাদী/ দরখাস্তকারী পক্ষের দাখিলী দেওয়ানী কার্যবিধি আইনে ৭ আদেশের ১১ (ডি) নিয়মে আরজী খারিজের দরখাস্তের বিগত ১১/০৬/২০১৩ইং তারিখে প্রদত্ত আদেশ রদ ও রহিত পূর্বক বে-আইনী ভাবে দায়েরকৃত বাদী/ প্রতিপক্ষের দেঃ মোঃ নং- ১৩ এর আরজী খারিজ করার প্রয়োজনীয় আদেশ দানে সুবিচার করার আজ্ঞা হয়।
.
“হলফনামা”
আমি, মোঃ শহীদুল কবির (শহীদ), পিতা-মোঃ কবির আহম্মেদ, সাং- প্লট নং-৩৬, রোড নং-০২ ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বয়স-৪৭ বৎসর, পেশা-ব্যবসা, জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম-ইসলাম, এই মর্মে হলফপূর্বক গোষনা করিতেছি যে,
১। আমি অত্র মামলার বিবাদী ও তদবীরকারক বটে।
২। অত্র দরখাস্তের সমস্ত বিবরণ সম্বন্ধে আমি সম্পূর্ণ ওয়াকেবহাল আছি এবং আমার জানা মতে সত্য ও সঠিক।
৩। অত্র হলফ করার জন্য আমি উপযুক্ত ব্যক্তি বটে।
উপরোক্ত হলফনামার সমস্ত বিবরণ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সম্পূর্ণ সত্য ও সঠিক জানিয়া হলফনকারী কমিশনার সাহেবের সম্মুখে অদ্য ১১-৭-২০১৩ইং তারিখে বেলা ১১.২০ ঘটিকার সময় অত্র হলফনামায় সহি সম্পাদন করিলাম।
.
হলফকারীর স্বাক্ষর
.
হলফকারী আমার পরিচিত, তিনি আমার সম্মুখে সাহি করিলে, আমি তাহাকে সনাক্ত করিলাম।
.
.
আইনজীবী