বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধনীসমূহ

বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধনীসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংবিধান প্রণয়ন করার পর ০৪/১১/১৯৭২ ইং তারিখে তৎকালীন গণপরিষদে গৃহিত হয়। তারপর হতে আজ ১৯/০৬/২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত এই সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। উক্ত সংশোধনীসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো- 

সংক্ষিপ্ত সারণী-

সংশোধনীসমূহ   সালে    তৎকালীন সরকার প্রধান  সংশোধিত মূল বিষয়

১ম      ১৯৭৩   শেখ মুজিবুর রহমান       যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

২য়      ১৯৭৩   শেখ মুজিবুর রহমান       জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান

৩য়      ১৯৭৪   শেখ মুজিবুর রহমান      ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময় করার বিধান

৪র্থ      ১৯৭৫   শেখ মুজিবুর রহমান       রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু

৫ম      ১৯৭৯   জিয়াউর রহমান সামরিক সরকারের কর্মকান্ডের বৈধতা দান

৬ষ্ঠ      ১৯৮১   আবদুর সাত্তার (বিএনপি)

উপরাষ্ট্রপতি পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন

৭ম      ১৯৮৬   এইচএম এরশাদ সামরিক সরকারের কর্মকান্ডের বৈধতা দান

৮ম      ১৯৮৮   এইচএম এরশাদ ৬ জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন, Dacca-কে Dhaka ও Bangali-কে Bangladeshi করা হয়।

৯ম      ১৯৮৯   এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রপতি পদে পর পর সর্বোচ্চ ২ বার দায়িত্ব পালন 

১০ম     ১৯৯০   এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ও ৩০টি মহিলা আসনের মেয়াদ ১০ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

১১শ     ১৯৯১   খালেদা জিয়া     সাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাবার বিধান

১২শ     ১৯৯১   খালেদা জিয়া     সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়

১৩শ    ১৯৯৬   খালেদা জিয়া     নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়

১৪শ     ২০০৪   খালেদা জিয়া     মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫, বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়।

১৫শ     ২০১১   শেখ হাসিনা      তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়

১৬শ    ২০১৪   শেখ হাসিনা      বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়

১৭শ    ২০১৮   শেখ হাসিনা      সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়

.

সংবিধানের ১ম সংশোধনী বিল পাস হয় ১৫/০৭/১৯৭৩ ইং তারিখে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভুযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রথম সংশোধনীটি পাস করা হয়েছিল। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৫৪ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল। বিলটি ১৭/০৭/১৯৭৩ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ২য় সংশোধনী বিল পাস হয় ২০/০৯/১৯৭৩ ইং তারিখে। অভ্যন্তরীণ গোলযোগ কিংবা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে বা হওয়ার আশংকা হলে “জরুরি অবস্থা” ঘোষণার বিধান করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৬৭ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল। বিলটি ২২/০৯১৯৭৩ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ- ২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২

.

সংবিধানের ৩য় সংশোধনী বিল পাস হয় ২৩/১১/১৯৭৪ ইং তারিখে। ভারত এবং বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী চুক্তি করে চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি বিনিময় করার বিধান করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৬১ – ৭ ভোটে পাস হয়েছিল।  বিলটি ২৭/১১/১৯৭৪ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনী বিল পাস হয় ২৫/০১/১৯৭৫ ইং তারিখে। সংসদীয় শাসন পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু করা হয় এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৯৪ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল।  বিলটি ২৫/০১/১৯৭৫ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

৫ম সংশোধনী: ৬ এপ্রিল, ১৯৭৯

সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বিল পাস হয় ০৬/০৪/১৯৭৯ ইং তারিখে। ১৫ আগস্টে ১৯৭৫ থেকে ৫ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের বৈধতা দেওয়া হয় এবং সংবিধানে “বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম” সংযোজন করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৪১ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল। এই সংশোধনীটি পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধ ঘোষিত হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। 

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ৬ষ্ঠ সংশোধনী বিল পাস হয় ০৮/০৭/১৯৮১ ইং তারিখে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি আবদুর সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। উপরাষ্ট্রপতি পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৫২ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১০/০৭/ ১৯৮১ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন আবদুর সাত্তার (বিএনপি)।  

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ৭ম সংশোধনী বিল পাস হয় ১১/১১/১৯৮৬ ইং তারিখে। ২৪ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১০ নভেম্বর ১৯৮৬ পর্যন্ত এইচএম এরশাদের সামরিক শাসন এর বৈধতা দেওয়া হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী বিচারপতি কে এম নুরুল ইসলাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২২৩ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১১/১১/১৯৮৬ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ।   

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ৮ম সংশোধনী বিল পাস হয় ০৭/০৬/১৯৮৮ ইং তারিখে। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি প্রদান, ঢাকার বাহিরে ৬ জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন, Dacca -এর বানান Dhaka এবং Bangali -এর নাম Bangladeshi-তে পরিবর্তন করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৫৪ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ০৯/০৬/১৯৮৮ ইং তারিখে। পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালত ঢাকার বাহিরে হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি বাতিল করে দেন। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ।   

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ- ২, ৩, ৫ ও ১০০

.

সংবিধানের ৯ম সংশোধনী বিল পাস হয় ১০/০৭/১৯৮৯ ইং তারিখে। রাষ্ট্রপতি পদে পর পর দুই বার দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৭২ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১১/০৭/১৯৮৯ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ।   

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ১০ম সংশোধনী বিল পাস হয় ১২/০৬/১৯৯০ ইং তারিখে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ও মহিলাদের ৩০টি আসন আরও ১০ বছর কালের জন্য সংরক্ষণ করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২২৬ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ২৩/০৬/১৯৯০ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ।   

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ- ১২৩(২)

.

সংবিধানের ১১তম সংশোধনী বিল পাস হয় ০৬/০৮/১৯৯১ ইং তারিখে। গণঅভ্যুত্থানে এইচ এম এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাবার বিধান করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৭৮ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১০/০৮/১৯৯০ ইং তারিখে। এই বিলটিও সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাস হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া।    

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ- ১২৩(২)

.

সংবিধানের ১২তম সংশোধনী বিল পাস হয় ০৬ আগস্ট ১৯৯১ তারিখে। দেশে ১৭ বছর পর আবার সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ৩০৭ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১৮/০৮/১৯৯১ ইং তারিখে। এই বিলটিও সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাস হয়। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া।   

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী বিল পাস হয় ২৭ মার্চ ১৯৯৬ তারিখে। নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৬৮ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ২৮/০৩/১৯৯৬ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের আদেশে এই সংশোধনীটি বাতিল হয়। ২০২৫ সালে আপিল বিভাগ সংশোধনীটি বৈধ বলে রায় দেন। 

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী বিল পাস হয় ১৬ মে ২০০৪ তারিখে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২২৬ – ১ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ১৭/০৫/২০০৪ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।  

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ-

.

সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বিল পাস হয় ৩০ জুন ২০১১ তারিখে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীযয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষযয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৯১ – ১ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ০৩/০৭/২০১১ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখজ হাসিনা। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এই সংশোধনীটি আংশিক অবৈধ বলে রায় দেন।

সংশোধিত অনুচ্ছেদসমূহ- ৭(ক), ৭(খ)

.

সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী বিল পাস হয় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে। ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ৩২৭ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে, আপিল বিভাগও ঐ রায় বহাল রাখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখজ হাসিনা। ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার সরকার পলায়নের পর ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে পুন:আপিল শুনানির পর আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনীর আগের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। 

.

সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল পাস হয় ০৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে। সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি ২৯৮ – ০ ভোটে পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল ২৯/০৭/২০১৮ ইং তারিখে। তখন সরকার প্রধান ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখজ হাসিনা।

.

এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

01711068609

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *