পুলিশ নিরস্ত্র মানুষের উপর অস্ত্র তাক করতে পারে কিনা এই বিষয়ের আইনের রেফারেন্সসহ আলোচনা করা হলো-
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সাধারণত একজন পুলিশ ইচ্ছা হলেই একজন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর অস্ত্র তাক করতে কিংবা গুলি করার উদ্যোগ নিতে পারে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, অর্থাৎ জান ও মালের চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হলে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে সি উদ্যোগের সীমা কখনও যতটুকু ঝুকি তার চেয়ে বেশি হতে পারবেনা। এই বিষয়ে আইনের ধারাসহ নিচে আলোচনা করা হলো-
.
কখন অস্ত্র ব্যবহার করা যায়-
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার (Right of Private Defence) দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-
.
১। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ১০০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হলে এবং আক্রমণকারীর কারণে তার মৃত্যু কিংবা গুরুতর আঘাত হতে পারে, এমন আশংকার সৃষ্টি হলে আক্রান্ত ব্যক্তি আক্রমণকারীকে হত্যা করতে পারে। ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার এই অধিকার যেকোন ব্যক্তি ভোগ করেন। সুতরাং একজন পুলিশ সদস্যও এই অধিকার ভোগ করতে পারে।
.
২। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) এর ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো অপরাধী গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য জোরপূর্বক বাধা দিলে কিংবা পালায়নের চেষ্টা করলে, পুলিশ তাকে আটকাতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে।
.
৩। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) এর ৪৬(৩) ধারায় বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ না হলে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার জন্য মৃত্যু ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ, সামান্য কোন অপরাধে কিংবা নিরস্ত্র অবস্থায় কাউকে সরাসরি গুলি করা আইনের চরম লঙ্ঘন।
.
৪। পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল, ১৯৪৩ (PRB, 1943)
পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নিয়ম কানুন পিআরবি-এর ১৫৩ থেকে ১৫৬ প্রবিধানে (Regulation) উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫৩ প্রবিধান- পুলিশ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে গুলি চালাতে পারে-
(ক) নিজের বা অন্যের জীবন রক্ষার জন্য।
(খ) বেআইনি জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চরম প্রয়োজন দেখা দিলে।
(গ) কোনো সম্পত্তি রক্ষা করতে গুরুতর আঘাতের বা হামলার শিকার।
আত্মরক্ষার অধিকার প্রতোগের সীমা-
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ৯৯ ধারায় বলা হয়েছে, আঘাতের পরিমাণ যতটুকু তার বেশি প্রতিঘাত করা যাবে না।
সুতরাং এই ৯৯ ধারা অনুযায়ী খালি হাতের একজন মানুষের উপর লাঠি উঠানো যাবে না। মরণাস্ত্র তো উঠানোর প্রশ্নই আসে না।
.
এই অস্ত্র এই পোষাক জনগণের সেবা করার জন্য। জনগণের উপর আক্রমণ করার জন্য নয়। আইন জানুন, সচেতন থাকুন।
.
যেকোন আইনগত সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন-
মহীউদ্দীন এন্ড এসোসিয়েটস
সার্বিক পরিচালনায়- এডভোকেট মুহাম্মদ মহীউদ্দীন (শিশির)
এলএল.বি, এলএল.এম, এমবিএ
ভূমি ও কর বিশেষজ্ঞ (Land & Tax Expert)
২/১, কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, ঢাকা জজ কোর্ট, কোতোয়ালী, ঢাকা।
অথবা
রোড-৫, ব্লক-এ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
ফোন- 01711068609 / 01540105088
ওয়েবসাইট- www.ainbid.com